Sunday, January 25, 2026

প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে ও তার ভরণপোষণ না দেওয়া একটি ফৌজদারি অপরাধ

প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে ও তার ভরণপোষণ না দেওয়া একটি ফৌজদারি অপরাধ।

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ৬ ধারামতে, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সালিশি পরিষদের কাছে অনুমতি না নিলে বিয়ে নিবন্ধন হবে না। আর তাই প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ বলে গণ্য হবে।

এ অবস্থায় প্রতিকার পেতে আপনি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধি আইন-১৮৬০-এর ৪৯৪-এর বিধানমতে মামলা করতে পারেন। এ সময় স্বামী দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা আদালতে দেখাতে হবে। আপনার স্বামীর অপরাধ প্রমাণিত হলে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এ ছাড়া সন্তান থাকলে আপনি তার ভরণপোষণ পাবেন। এ ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালতে ভরণপোষণ চেয়ে মামলা করতে পারেন।

স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে সম্পর্কে আইনে আসলে কী আছে সে সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণা নেই। আজ সে বিষয়েই আলোচনা করা হবে।

বর্তমান স্ত্রী জীবিত থাকতে আরেকটি বা একাধিক বিয়ে করাকে বহুবিবাহ বলা হয়। আইন অনুযায়ী এক স্ত্রী জীবিত অবস্থায় আরেকটি বিয়ে করা যাবে না। তবে কোনো ব্যক্তির যদি এক স্ত্রী বর্তমান থাকাকালে আরেকটি বিয়ে করার প্রয়োজন পড়ে (যেমন- সন্তান না হওয়া বা অসুস্থতা ইত্যাদি), তাহলে তাকে বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের মধ্যের শেষ স্ত্রীর এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে আরেকটি বিয়ে করার অনুমতি চেয়ে আগে আবেদন করতে হবে।

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ ধারার ৬ মতে, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সালিশি পরিষদের কাছ হতে অনুমতি না নিলে বিয়ে নিবন্ধন হবে না। অনুমতির জন্য ফি দিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হবে ও আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিয়ের অনুমতি প্রদানে যেসব বিষয়ের প্রতি বিবেচনা করা হবে তার মধ্যে অন্যতম হলো:

(১) বর্তমান স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব
(২) শারীরিক মারাত্মক দুর্বলতা
(৩) দাম্পত্য জীবন সম্পর্কিত শারীরিক অযোগ্যতা
(৪) দাম্পত্য অধিকার পুনর্বহালের জন্য আদালত হতে প্রদত্ত কোনো আদেশ বা ডিক্রি বর্জন
(৫) মানসিকভাবে অসুস্থতা ইত্যাদি।

স্ত্রীর অধিকার লঙ্ঘনে আইনি প্রতিকার কী:

কোনো পুরুষ যদি সালিশি পরিষদের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তবে তিনি অবিলম্বে বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীদের আংশ বা বিলম্বিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করবেন।

এক্ষেত্রে বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীরা আদালতে মামলা করে বিয়ে বিচ্ছেদ করতে পারেন।
দ্বিতীয় বিয়ে করার কারণে আবার প্রথম স্ত্রী আলাদা বসবাস করেও ভরণ-পোষণ পাবেন।
প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বসবাসরত নাবালক সন্তানদের ভরণ-পোষণ দিতে পিতা আইনত বাধ্য থাকবেন।

ভরণ-পোষণের সঙ্গে সঙ্গে স্ত্রী ও সন্তানরা উত্তরাধিকারীর অধিকার লাভ করবেন।

মোহরানার টাকা পরিশোধ করা না হলে বকেয়া ভূমি রাজস্ব আদায়ের মতো আদায় করার বিধান রয়েছে। এছাড়াও অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে এক বছর পর্যন্ত জেল এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ড হবে।

অপরদিকে দণ্ডবিধি আইন ১৮৬০-এর ৪৯৪ বিধান মতে,
স্বামী-স্ত্রী থাকাকালীন পুনরায় বিয়ে করলে সে ব্যক্তি যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ড যার মেয়াদ ৭ বছর পর্যন্ত হতে পারে তদুপরি অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা উচিত,
বহু বিয়ের মামলায় বাদিকে সফল হতে হলে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে,
দ্বিতীয় বিয়ের সময় প্রথম বৈধ বিয়ের অস্তিত্ব ছিল।

বহু বিয়ের আইনগত দিক কী:

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ অনুযায়ী পূর্বে সালিশি পরিষদের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি না নিয়ে কোনো পুরুষ একটি বিয়ে বলবৎ থাকাকালে আর একটি বিয়ে করতে পারবেন না।

পূর্বানুমতি গ্রহণ না করে এই জাতীয় কোনো বিয়ে হলে তা মুসলিম বিয়ে এবং তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন ১৯৭৪ সালের ৫২নং আইন মতে রেজিস্ট্রি হবে না।

বিয়ের অনুমতির জন্য নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে নির্ধারিত পদ্ধতিতে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রে প্রস্তাবিত বিয়ের কারণ ও বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতি নেওয়া হয়েছে কি না তা উল্লেখ করতে হবে।


Monday, November 24, 2025

স্বামীকে তালাক দিতে হলে...

স্বামীকে তালাক দিতে হলে স্ত্রীর কিছু আইনগত এবং শরীয়ত-ভিত্তিক নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ পদ্ধতি হলো খুলা তালাক, যেখানে স্ত্রী কিছু ক্ষতিপূরণ দিয়ে স্বামীর থেকে বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষমতা লাভ করেন। এছাড়া, স্ত্রী কিছু শর্ত সাপেক্ষে বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষমতা লাভ করতে পারেন, যা বিবাহের চুক্তিতে উল্লেখ থাকে। অন্যথায়, স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য মামলা করতে পারেন। 

তালাক দেওয়ার পদ্ধতি

  • খুলা তালাক: স্ত্রী কিছু ক্ষতিপূরণ দিয়ে (সাধারণত দেনমোহর ফেরত দিয়ে) স্বামীর কাছ থেকে তালাকের অনুমতি চাইতে পারেন।
  • বিবাহের চুক্তিতে শর্ত: বিবাহের সময় যদি চুক্তিপত্রে স্ত্রী তালাকের ক্ষমতা বা বিচ্ছেদের অধিকার প্রাপ্ত হন, তবে সেই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তালাক দিতে পারেন।
  • আদালতের মাধ্যমে: স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য মামলা দায়ের করতে পারেন। এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু কারণ থাকতে হবে, যেমন: স্বামীর নির্যাতন, বা অন্যান্য কারণ।
  • অন্যান্য বিকল্প: স্ত্রী যদি বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আবেদন করেন, তাহলে তা কার্যকর হতে ৯০ দিন সময় লাগে। 

প্রয়োজনীয় নিয়মাবলী

  • আইনি পরামর্শ: আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তালাক কার্যকর করার জন্য একজন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
  • তালাকনামা: তালাক কার্যকর করতে হলে, স্বামী কর্তৃক স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের কাছে তালাকনামা দাখিল করতে হয়।
  • দেনমোহর ভরণপোষণ: বিবাহ বিচ্ছেদের পর স্ত্রী তার দেনমোহর এবং অন্য কোনো প্রকার আর্থিক সুবিধা (যেমন, ভরণপোষণ) দাবি করতে পারেন

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

  • তালাক কার্যকর: তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
  • তালাকের নোটিশ: তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য স্বামী কর্তৃক তালাকের নোটিশ পাঠানো এবং তা গ্রহণ করা জরুরি।
  • তালাকের আইনি প্রক্রিয়া: তালাকের প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে অতিক্রম করলে বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পন্ন হবে। 

 

 

 

 


Tuesday, August 5, 2025

🫀 হার্টের রিং (স্টেন্ট) বসানোর নির্ধারিত মূল্য – প্রতারণা থেকে সাবধান!

 

🫀 হার্টের রিং (স্টেন্ট) বসানোর নির্ধারিত মূল্য – প্রতারণা থেকে সাবধান! আপনার, আমার, আমাদের সবার জন্য সুখবর! বাংলাদেশ সরকার এখন থেকে হার্টের রিং (স্টেন্ট) বসানোর জন্য সরকারি মূল্য নির্ধারণ করেছে, যেন কোনো হাসপাতাল বা ব্যক্তি অতিরিক্ত টাকা দাবি করে সাধারণ রোগীদের প্রতারিত করতে না পারে। 📌 উদাহরণস্বরূপ: ✓Resolute Onyx (Medtronic) – সর্বোচ্চ দাম: ৯০,০০০ টাকা ✓Promus Elite (Boston) – সর্বোচ্চ দাম: ৭২,০০০ টাকা ✓Xience Prime (Abbott) – সর্বোচ্চ দাম: ৫০,০০০ টাকা ✓Onyx Trucor (Medtronic) – সর্বোচ্চ দাম: ৫০,০০০ টা

কা
👉 সরকারি তালিকায় প্রতিটি স্টেন্টের নির্ধারিত দাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ⚠️ এখন থেকে কেউ যদি এর বেশি দাম দাবি করে – সেটা অবৈধ। ✅ কী করবেন? 1. হার্টের রিং লাগানোর আগে স্টেন্টের নাম ও কোম্পানির নাম জেনে নিন। 2. সরকারের নির্ধারিত দামের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। 3. অতিরিক্ত দাম চাইলেই অভিযোগ করুন: 📞 স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হেল্পলাইন – ১৬২৬৩ ✉️ ইমেইল: drugad1@hsd.gov.bd ✊ চলুন, আমরা সবাই সচেতন হই — রোগী ও তার পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধ হই।

ICMAB Previous Questions and Solutions Link

CMA 2026 Exam CMA 2025 Exam CMA 2024 Exam CMA 2023 Exam   CMA 2022 Exam